বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা কীরূপ ছিল?
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল মূলত মানবিক সহায়তা প্রদান ও শরণার্থীদের পাশে দাঁড়ানো, যদিও বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার সংস্থা হিসেবে এটি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) প্রধানত শরণার্থীদের সাহায্যার্থে কাজ করে এবং এই সহযোগিতার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভূমিকা শুরু হয়। তবে, পাকিস্তান কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় এবং একপ্রকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা ও শরণার্থী কার্যক্রম
জাতিসংঘের নীরবতা ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা:
মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘের মহাসচিব কে ছিলেন?
- তিনি ছিলেন বর্মী কূটনীতিবিদ এবং জাতিসংঘের তৃতীয় মহাসচিব।
- ১৯৬১ সালে জাতিসংঘের দ্বিতীয় মহাসচিব দ্যাগ হ্যামারশোল্ড একটি বিমান দুর্ঘটনায় মারা গেলে উথান্টকে মহাসচিব পদে নির্বাচিত করা হয়।
- তিনি ১৯৬১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্বে ছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তিনি উদ্যোগী হয়েছিলেন।
জাতিসংঘ বাংলাদেশকে কত সালে স্বীকৃতি দেয়?
জাতিসংঘের স্বপ্নদ্রষ্টা কে?
ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের ভূমিকা: তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সহযোগিতার লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের ধারণা দিয়েছিলেন। জাতিসংঘের নামকরণ তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান, যা বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার এই ধারণাকে প্রতিফলিত করে।
জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাতা কে?
- ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টই জাতিসংঘের নামকরণ করেন।
- ১৯৪১ সালের আটলান্টিক সনদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের একটি বৈঠকের মাধ্যমে যুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘের প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
- জাতিসংঘের ধারণাটি জাতিপুঞ্জ বা লীগ অফ নেশনসের ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত হয়েছিল।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের প্রস্তাবিত ১৪-দফা নীতির আলোকে ১৯২০ সালে লীগ অব নেশনস প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বিশ্ব শান্তি রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে লীগ অব নেশনস অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং এই ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতেই একটি নতুন বিশ্ব সংস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
- জাতিসংঘ গঠিত হওয়ার প্রাথমিক ধারণাটি রুজভেল্ট এবং চার্চিলের আটলান্টিক সনদের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।
জাতিসংঘের প্রধান অঙ্গ কি কি?
জাতিসংঘের প্রধান অঙ্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে: একটি সাধারণ পরিষদ, একটি নিরাপত্তা পরিষদ, একটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, একটি ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল, একটি আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এবং একটি সচিবালয়।
জাতিসংঘের কয়টি দাপ্তরিক ভাষা রয়েছে?
জাতিসংঘের প্রথম নারী ন্যায়পাল কে?
জাতিসংঘের প্রথম নারী ন্যায়পাল ছিলেন জ্যামাইকার রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া ডুরাই। তিনি জাতিসংঘ ন্যায়পাল (United Nations High Commissioner for Human Rights) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব কে?

আন্তোনিও গুতেরেস
জাতিসংঘের বর্তমান ও ৯ম তম মহাসচিব হলেন আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি একজন পর্তুগিজ রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিক এবং ২০১৭ সাল থেকে এই পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
নাম: আন্তোনিও গুতেরেস
জাতীয়তা: পর্তুগিজ
কার্যকাল: ২০১৭ সাল থেকে
২০১৮ সালের বাংলাদেশ সফর:
২০১৮ সালের বাংলাদেশ সফর:
রোহিঙ্গাদের সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম ও আন্তর্জাতিক রেডক্রসের প্রেসিডেন্ট পিটার মরাসহ উচ্চপর্যায়ের পাঁচ ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশ সফর করেন।
২০২৫ সালের বাংলাদেশ সফর:
২০২৫ সালের ১৩ মার্চ চার দিনের সফরে ঢাকায় আসেন আন্তোনিও গুতেরেস।[১১][১২] তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ১৪ মার্চ, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে সাথে নিয়ে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তিনি। এসময় প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গাদের সাথে ইফতার করেন তারা।[১৩][১৪][১৫]
জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব কে ছিলেন?

ট্রিগভে হাভডেন লি
ট্রিগভে হাভডেন লি, জন্ম জুলাই ১৬, ১৮৯৬ – মৃত্যু ডিসেম্বর ৩০, ১৯৬৮) জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব। ১৯৪৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৫২ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত এই পদে বহাল থাকেন। ট্রিগভে লি নরওয়ের নাগরিক ছিলেন।
কাজের মেয়াদ: ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৬ – ১০ নভেম্বর ১৯৫২
পূর্বসূরী: গ্লাডউইন জেব (ভারপ্রাপ্ত)
উত্তরসূরী: দগ হামারহোল্ড
জাতিসংঘের দ্বিতীয় মহাসচিব কে ছিলেন?

দগ হামারহোল্ড
জাতিসংঘের দ্বিতীয় মহাসচিব ছিলেন সুইডিশ কূটনীতিক দ্যাগ হ্যামারশোল্ড (Dag Hammarskjöld)। তিনি ১৯৫৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে ১৯৬১ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।
পুরো নাম:
ড্যাগ হালমার আগ্নে কার্ল হামারশোল্ড।
কাজের মেয়াদ:
এপ্রিল ১৯৫৩ - সেপ্টেম্বর ১৯৬১।
পেশা:
সুইডেনের একজন খ্যাতিমান কূটনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ এবং লেখক ছিলেন।
পদ:
তিনি জাতিসংঘের দ্বিতীয় মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মৃত্যু:
বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হওয়ার কারণে তিনি মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি।
জাতিসংঘের তৃতীয় মহাসচিব কে ছিলেন?

উ থান্ট (U Thant)
জাতিসংঘের তৃতীয় মহাসচিব ছিলেন মিয়ানমারের শিক্ষাবিদ ও কূটনীতিক উ থান্ট (U Thant)। তিনি ১৯৬১ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন এবং এশিয়া থেকে নির্বাচিত প্রথম মহাসচিব ছিলেন।
উ থান্ট (U Thant) ছিলেন একজন মিয়ানমারের (বার্মা) শিক্ষাবিদ, বেসামরিক কর্মচারী এবং জাতিসংঘের তৃতীয় মহাসচিব (১৯৬১-১৯৭২)। তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত প্রথম অ-স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এবং প্রথম এশীয় ছিলেন। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।
জন্ম ও মৃত্যু:
তিনি ২২ জানুয়ারী, ১৯০৯ সালে বার্মায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৫ নভেম্বর, ১৯৭৪ সালে নিউ ইয়র্কে মারা যান।
নিয়োগ:
জাতিসংঘের দ্বিতীয় মহাসচিব দ্যাগ হ্যামারশোল্ডের বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর সেপ্টেম্বরে ১৯৬১ সালে তাকে মহাসচিব পদে নির্বাচিত করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ অবদান:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন তিনি মহাসচিব ছিলেন।
পরিচয়:
তিনি একজন বর্মী কূটনীতিক ছিলেন এবং জাতিসংঘের একজন শিক্ষাবিদ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন যে তারিখে বাংলাদেশে আগমন করেন
জাতিসংঘের কোন মহাসচিব সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন?
জাতিসংঘের প্রথম মুসলিম মহাসচিব কে ছিলেন?
ভুল তথ্যের উৎস: কফি আনানের নাম জাতিসংঘের মহাসচিবদের তালিকায় আসার কারণে অনেকে তাকে মুসলিম মহাসচিব হিসেবে ধরে নেন, যা ভুল তথ্য। জাতিসংঘের ইতিহাসে কোনো মুসলিম মহাসচিব ছিলেন না।
জাতিসংঘের প্রথম সদস্য দেশ কোনটি ছিল?
সীমান্তের বর্তমান অবস্থা:
- বর্তমানে, এই সীমান্তকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বা আন্তর্জাতিক সীমান্ত (আইবি) বলা হয়।
- এটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমানা।
জাতিসংঘ শান্তি কমিশনের প্রথম নারী সভাপতি

রাবাব ফাতিমা
মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) নিউ ইয়র্কে মিশরের কাছ থেকে ২০২২ সেশনের জন্য এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা। এর আগে এই পদে কোনও নারী ছিলেন না। রাবাব ফাতিমাই প্রথম নারী চেয়ার হিসেবে পিসবিল্ডিং কমিশনে নেতৃত্ব দেবেন।
প্রথম জাতিসংঘ মহাসচিব কে বাংলাদেশ সফর করেন?
বাংলাদেশ-জাতিসংঘ সম্পর্ক আরো জোরদার হয় যখন ১৯৭৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ মহাসচিব কুর্ট ওয়াল্ডহেইম বাংলাদেশ সফরে আসেন এবং প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব কুর্ট ওয়াল্ডহেইম ছিলেন ৪র্থ মহাসচিব, তার আমলে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য হয়। ১৯৭৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ মহাসচিব কুর্ট ওয়াল্ডহেইম বাংলাদেশ সফরে আসেন এবং প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ সফর দ্বারা জাতিসংঘ বাংলাদেশের জাতিগঠন প্রক্রিয়ায় সমর্থন দান করে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ কয়টি?
আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য মৌলিক অঙ্গ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত পরিষদটি ১৫ সদস্য নিয়ে গঠিত, যার পাঁচটি ভিটো ক্ষমতাসহ স্থায়ী সদস্য (পি৫): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, রাশিয়া, চিন ও ফ্রান্স। এরা বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ী এবং তখনকার প্রধান সামরিক শক্তি।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যরা ( স্থায়ী পাঁচ , বিগ ফাইভ বা P5 নামেও পরিচিত) হল পাঁচটি সার্বভৌম রাষ্ট্র যাদের 1945 সালের জাতিসংঘ সনদ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি স্থায়ী আসন প্রদান করে: চীন , ফ্রান্স , রাশিয়া , যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ।
1965 সালে জাতিসংঘের সনদে একটি সংশোধনীর ফলে পরিষদের সদস্য সংখ্যা 15-এ উন্নীত হয়, যার মধ্যে মূল পাঁচটি স্থায়ী সদস্য এবং 10টি অস্থায়ী সদস্য ছিল।
জাতিসংঘের ৫টি স্থায়ী সদস্য দেশ কেন স্থায়ী হয়?
নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী শক্তি ছিল এবং তখন থেকেই তারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী বজায় রেখেছে ।
৫ টি স্থায়ী সদস্যের বিশেষ ক্ষমতা কি?
নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রয়েছে—চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য (যুক্তরাজ্য) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র—যারা সম্মিলিতভাবে P5 নামে পরিচিত। তাদের যে কেউ একটি প্রস্তাবে ভেটো দিতে পারে । নিরাপত্তা পরিষদের দশজন নির্বাচিত সদস্য, যারা দুই বছর ধরে, অবিচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাদের ভেটো ক্ষমতা দেওয়া হয় না।
জাতিসংঘের অস্থায়ী সদস্য কতটি?
1965 সালে জাতিসংঘের সনদে একটি সংশোধনীর ফলে পরিষদের সদস্য সংখ্যা 15-এ উন্নীত হয়, যার মধ্যে মূল পাঁচটি স্থায়ী সদস্য এবং 10টি অস্থায়ী সদস্য ছিল।
এই চুক্তি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলা বিরোধপূর্ণ ছিটমহল সংক্রান্ত সমস্যা এবং অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধের একটি চূড়ান্ত সমাধান দেয়।
এই চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়।
জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত কে হত্যা করেন?
গ্রেভ ফোক বার্নাডোট (আফ উইসবর্গ) (জন্ম: ২ জানুয়ারী, ১৮৯৫, স্টকহোম , সুইডেন—মৃত্যু: ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮, জেরুজালেম) ছিলেন একজন সুইডিশ সৈনিক, মানবতাবাদী এবং কূটনীতিক যিনি আরব ও ইসরায়েলিদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জাতিসংঘে (জাতিসংঘ) দায়িত্ব পালন করার সময় নিহত হন।
জাতিসংঘের সর্বশেষ সদস্য দেশ কোনটি?
বিশ্বের সবচেয়ে নতুন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দেশ হল আফ্রিকান দেশ দক্ষিণ সুদান , যেটি ৯ জুলাই, ২০১১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। পরের দিনগুলিতে, এটি জাতিসংঘের নতুন সদস্যও হয়ে ওঠে। তাহলে, নতুন দেশগুলি কীভাবে অস্তিত্ব লাভ করে?
জাতিসংঘের কোন মহাসচিব বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান?
ড্যাগ হজালমার অ্যাগনে কার্ল হ্যামারস্কজোল্ড (ইংরেজি: /ˈhæmərʃʊld/ HAM-ər-shuuld, সুইডিশ: [ˈdɑːɡ ˈhâmːarˌɧœld]; ২৯ জুলাই ১৯০৫ – ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৬১) ছিলেন একজন সুইডিশ অর্থনীতিবিদ এবং কূটনীতিক যিনি ১৯৫৩ সালের এপ্রিল থেকে ১৯৬১ সালের সেপ্টেম্বরে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জাতিসংঘের দ্বিতীয় মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ফিলিস্তিনে জাতিসংঘের মধ্যস্থতাকারী কে ছিলেন?
১৯৪৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, ফিলিস্তিনের জন্য জাতিসংঘের মধ্যস্থতাকারী কাউন্ট ফোক বার্নাডোটকে জেরুজালেমে একটি ইহুদিবাদী জঙ্গি সংগঠন হত্যা করে। ফিলিস্তিনের জন্য জাতিসংঘের বিভাজন পরিকল্পনা এবং পরবর্তীকালে একতরফা ইসরায়েলি স্বাধীনতার ঘোষণার পর কাউন্ট বার্নাডোটের ফিলিস্তিনে উপস্থিতি ঘটে।
জাতিসংঘ কি ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি দেয়?
জাতিসংঘের ৫টি প্রধান অঙ্গ কি কি?
জাতিসংঘের স্থপতি কে ছিলেন?
পরিচালক: ওয়ালেস কে. হ্যারিসন ছিলেন স্থপতিদের এই দলের পরিচালক.
দল: তাঁর নেতৃত্বে, লে করবুসিয়ে, অস্কার নিয়েমেয়ার এবং আরও অনেক খ্যাতনামা স্থপতি নকশা প্রণয়নে অংশ নেন.
নকশার প্রক্রিয়া: জাতিসংঘ সদর দপ্তরের নকশা প্রণয়নের জন্য একটি বহুজাতিক কমিশন গঠন করা হয়.
ভবন: এই নকশাটিই জাতিসংঘের সচিবালয় ভবনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ধাঁচে ডিজাইন করা.
জাতিসংঘ সনদের রচয়িতা কে?
জাতিসংঘ সনদের রচয়িতা: আর্কিভাল্ড ম্যাকলিশ
২৪ অক্টোবর ১৯৪৫। এ জন্য ২৪ অক্টোবর কে জাতিসংঘ দিবস বলা হয়।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ কত চাঁদা প্রদান করে?
চাঁদার হার সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
বর্তমান হার: বাংলাদেশ তার নিজস্ব বাজেটের ০.০১% হারে জাতিসংঘে চাঁদা দিয়ে থাকে।
ভবিষ্যৎ পরিবর্তন: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জাতিসংঘের সহায়তা গ্রহণ করে আসছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, দেশের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে চাঁদার হারও বৃদ্ধি পাবে।
বর্ধিত হার: আগামী চার বছরের জন্য (২০১৬ সালের ঘোষণা অনুযায়ী) ২৫ শতাংশ বেশি হারে চাঁদা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল, যা একটি বর্ধিত হার নির্দেশ করে।
সর্বোচ্চ চাঁদা: একটি দেশ সর্বোচ্চ ২৫% বাজেট দিয়ে থাকে, এবং যুক্তরাষ্ট্র এই সর্বোচ্চ পরিমাণ চাঁদা দেয়।
কারণ: এই চাঁদার হার মূলত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় বাজেটের উপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়।
জাতিসংঘের সনদে কে স্বাক্ষর করেন?
জাতিসংঘের ১৩৬ তম সদস্য কে ছিলেন?
জাতিসংঘের সবচেয়ে ক্ষুদ্র সদস্য রাষ্ট্র কোনটি?
জাতিসংঘের প্রথম স্থায়ী প্রতিনিধি কে ছিলেন?
জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি
- ১৯৭৪-১৯৭৬: এসএ করিম
- ১৯৭৬-১৯৮২: খাজা এম. কায়সার
- ১৯৮২-১৯৮৬: খাজা ওয়াসিউদ্দিন
- ১৯৮৬-১৯৮৮: বিএ সিদ্দিকী
- ১৯৮৮-১৯৯০: এএইচএস আতাউল করিম
- ১৯৯০-১৯৯১: এএইচজি মহিউদ্দিন
- ১৯৯১-১৯৯১: মোহাম্মদ মহসিন
- ১৯৯১-১৯৯৪: এম. হুমায়ুন কবির
1945 সালের আগে জাতিসংঘের নাম কি ছিল?
জাতিসংঘ কি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল?
জাতিসংঘের সনদে স্বাক্ষর করেন কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?
জাতিসংঘ নামকরণ করেন কে?
জাতিসংঘের ৫ জন প্রতিষ্ঠাতা কে?
জাতিসংঘের ছোট রাষ্ট্র গোষ্ঠী কোনটি?
জাতিসংঘ সনদ কী?
জাতিসংঘ শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
জাতিসংঘে কতটি সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে?
মোট সদস্য রাষ্ট্র: বর্তমানে জাতিসংঘের মোট সদস্য রাষ্ট্র সংখ্যা হলো ১৯৩টি।
সর্বশেষ সদস্য: ২০১১ সালের ১৪ জুলাই দক্ষিণ সুদান জাতিসংঘের ১৯৩তম সদস্যপদ লাভ করে।
প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য: জাতিসংঘ ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিল ৫১টি।
এই সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রত্যেকের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সমান প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।
জাতিসংঘের সদস্য নয় দেশ কয়টি?
জাতিসংঘের জনক কাকে বলা হয়?

জাতিসংঘের জনক কাকে বলা হয়?
কর্ডেল হালকে "জাতিসংঘের জনক" বলা হয় কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর একটি আন্তর্জাতিক শান্তি সংগঠন প্রতিষ্ঠার জন্য তার ভূমিকার জন্য রাষ্ট্রপতি রুজভেল্ট তাকে এই উপাধি দিয়েছিলেন এবং ১৯৪৫ সালে তিনি এই অবদানের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। ভূমিকা: কর্ডেল হাল ছিলেন একজন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। উপাধি: ১৯৪৫ সালে, রাষ্ট্রপতি রুজভেল্ট তাকে "জাতিসংঘের জনক" হিসেবে অভিহিত করেন, যা তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ছিল। পুরস্কার: জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকার জন্য ১৯৪৫ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন।
জাতিসংঘের সদস্য নয় কোন দেশ?
জাতিসংঘে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশ কোনটি?

জাতিসংঘে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশ কোনটি?
ভ্যাটিকান সিটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে খেতাব ধারণ করে, যার আয়তন মাত্র ০.১৭ বর্গমাইল (০.৪৪ বর্গকিলোমিটার)।
জাতিসংঘের কয়টি সদর দপ্তর রয়েছে?
জাতিসংঘের কয়টি সদর দপ্তর রয়েছে?
জাতিসংঘের তিনটি অতিরিক্ত, সহায়ক ও আঞ্চলিক সদর দপ্তর রয়েছে। এগুলো জেনেভা, ভিয়েনা ও নাইরোবিতে অবস্থিত। এই দপ্তরগুলো জাতিসংঘকে তার নির্দেশনা প্রতিনিধিত্বকরণে, কূটনৈতিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে ও কিছু অতিরাষ্ট্রিক সুবিধা লাভে সাহায্য করে। তবে নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তর কেবল জাতিসংঘের প্রধান ছয়টি অঙ্গসংগঠন ধারণ করে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘের মহাসচিব কে ছিলেন
১৯৭১সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জাতিসংঘের মহাসচিব কে ছিলেন?
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় (১৯৭১ সালে) জাতিসংঘের মহাসচিব ছিলেন উ থান্ট। তিনি ছিলেন মিয়ানমারের একজন কূটনীতিবিদ এবং জাতিসংঘের তৃতীয় মহাসচিব। তিনি ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন। একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পুরো সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ এই সংস্থার প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা
৭১-এর মুক্তি সংগ্রামে আমেরিকার বিরোধী ভূমিকা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল দ্বিমুখী এবং বিতর্কিত; সরকার একদিকে পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল এবং যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, অন্যদিকে মার্কিন জনগণ, কংগ্রেস, সিনেট এবং গণমাধ্যম বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল এবং সমর্থন দিয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Nixon সরকার পাকিস্তানের অখণ্ডতা বজায় রাখতে চেয়েছিল এবং সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা তা করতে পারেনি।
মার্কিন সরকারের নীতি ও পদক্ষেপ:
পাকিস্তানকে সমর্থন:
Nixon প্রশাসন "অখণ্ড পাকিস্তান" নীতিতে বিশ্বাসী ছিল এবং পাকিস্তান সরকারের প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছিল।
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব:
যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়, যার উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের গতি হ্রাস করা এবং পশ্চিম পাকিস্তানকে রক্ষা করা।
সপ্তম নৌবহর প্রেরণ:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সপ্তম নৌবহরকে বাংলাদেশের দিকে প্রেরণ করে, যা মূলত পাকিস্তানকে সামরিক সহায়তা এবং সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত ছিল।
মার্কিন জনগণ ও অন্যান্য স্তরের ভূমিকা:
জনগণের সহানুভূতি:
মার্কিন জনগণ, প্রচার মাধ্যম এবং অনেক বুদ্ধিজীবী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল এবং তাদের সমর্থন জানিয়েছিল।
কংগ্রেস ও সিনেটের সমর্থন:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ও সিনেটের সদস্যরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং সরকারের নীতির বিরোধিতা করেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা:
মার্কিন গণমাধ্যমগুলো যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং বাঙালি জনগণের সংগ্রামের পক্ষে জনমত তৈরি করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
সারসংক্ষেপ:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নীতি ছিল পাকিস্তানপন্থী, তবে জনগণের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতি ব্যাপক সমর্থন ছিল। এই দুই ভিন্ন মেরুর অবস্থানের কারণে দেশটির ভূমিকা ছিল জটিল ও বিতর্কিত।